বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
বাসসের নেতৃত্বে কামাল উদ্দিন সবুজ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে খামেনির সম্মতি ও ট্রাম্পের ঘোষণা ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা: নেপথ্যে পাকিস্তান ও ১০ দফার প্রস্তাব আজ রাতেই একটি সভ্যতার মৃত্যু ঘটবে: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি বনপাড়া পৌর শহরের কৃতি সন্তান মাহমুদুল হাসান মেয়র প্রার্থী দোহারে গৃহবধূ মলি হত্যা সাবেক স্বামী র্যাকবের হাতে গ্রেপ্তার আওয়ামী আমলের প্রভাব খাটানো ইউএনও আলমগীর এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব! বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের বড় চালান

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দু’দিন আগেই ধসে গেছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
নির্মাণ ব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি করেও শেষ রক্ষা হলো না লালমনিরহাটের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের। উদ্বোধনের দু’দিন আগেই সেতুটির সংযোগ সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। অথচ বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের ইচলী এলাকার ব্রিজ ধসে পড়েছে।
জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অধিকতর উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিস্তা নদীর ওপর কাকিনা-মহিপুর ঘাটে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্ধেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল এ সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরই মধ্যে সেতুর কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে বাস্তবায়নকারী কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দফতর। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সেজন্য সেতুর উত্তর পাশে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের ইচলী এলাকার একটি ব্রিজের মোকা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন ওই এলাকায় নৌকায় করে চলাচল করছেন পথচারীরা। এর আগেও ব্রিজের মোকা ধসে পড়লে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে সংশ্লিষ্ট দফতর।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় জানান, ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ১৬টি পিলার, ২টি অ্যাপার্টমেন্ট ও ১৭টি স্প্যানে ৮৫টি গার্ডারের ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে। একই টাকার মধ্যে সেকুটি রক্ষার জন্য উভয় পাশে ১৩০০ মিটার নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর সঙ্গে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা থেকে সেতু পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৮০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২টি প্যাকেজে ৪ কোটি ৪৬ লাখ এবং এ সড়কে ২টি ব্রিজ ও ৩টি কালভার্ট নির্মানে ৩টি প্যাকেজে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেতু থেকে রংপুরের অংশে ৫৬৩ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় এক কোটি ৪২ লাখ টাকা।
প্রথমে সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে এক কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এই ৫ কিলোমিটার সড়কে ৩ দফায় মোট ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধস থেকে ব্রিজকে রক্ষা করতে পুনরায় তিন কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ সংস্কার কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কামাল অ্যাসোসিয়েট স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়া ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করে। কাজ শেষ না হতেই বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ইচলী এলাকার ব্রিজের মোকা ধসে পড়লে স্থানীয়রা বালুর বস্তা ফেলে পানির ¯্রােত রক্ষা করেন। নি¤œমানের কাজের কারণে উদ্বোধনের দু’দিন আগেই সড়ক ধসে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের শুরু থেকে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ করেও সুফল মেলেনি। নি¤œমানের কাজ ঢাকতে চার দফায় সংস্কার করেও চলাচলের উপযোগী করতে পারছে না প্রকৌশল দফতর। নদী শাসনের ১৩০০ মিটার বাঁধ অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, তিস্তার মূল ¯্রােতধারা সেতু হয়ে না গিয়ে লোকালয় হয়ে যাচ্ছে। এতে লোকালয় ভাঙ্গছে, সেই সঙ্গে ভেঙ্গে যাচ্ছে এই ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট। এই সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় উদ্বোধনের আগেই তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুটি অকার্জকর হয়ে পড়লো।
সেতু এলাকার নুরুজ্জামান আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম জানান, নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে এই প্রকল্পের অর্থে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের পকেট মোটা তাজা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের হুমকি দিত তারা।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান জানান, নদী প্রতিমুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে। সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা যখন করা হয়, সে সময়ের গতিপথ অনুযায়ী সেতু ও নদী শাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এটার দায় তার নয়। উল্টো পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যথা সময়ে হবে। ধসে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত বা সাময়িক যোগাযোগের জন্য ব্যবস্থা করতে প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com